21st Century Education



শিক্ষা - সবথেকে ভাল অভ্যাস

এসএসএ -র মাধ্যমে উত্কৃষ্ট শিক্ষাব্যবস্থার বিভাজন

হায়দ্রাবাদ : মলিন জামাকাপড় আর ছেড়া চটি দ্বারা সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করা যায়. কিন্তু এদের প্রতিভা কোন দামি শহরে স্কুলের ছাত্রদের থেকে কোন অংশে কম নয়। এদের ম্যাগাজিন বোর্ড, গ্রন্থাগার, ক্লাস ঘরের পরিবর্তন এসবের প্রতি এদের মনোযোগ ও পড়াশুনার উত্কর্ষতা সবেই এদের প্রতিভার প্রকাশ পায়।

এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে দুস্থ সরকারি স্কুলের শিশুরা তাদের নিজস্ব শ্রেনীকক্ষের গ্রন্থাগার তৈরী করে তাদের ম্যাগাজিন তারা ডিজাইন করে এবং এসবের সাহায্যে তাদের প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। সর্ব শিক্ষা অভিযানের সাহায্যে অর্থনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পরা ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার উত্কর্ষতা বাড়াবার জন্য কিস্তিতে টাকা দেবার সুবিধা করে পড়াশুনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বোয়েনপল্লীর সরকারি উচ্চতর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীর কবিতা গত বছর পর্যন্ত আর পাঁচটা সাধারন ছাত্রীর মতই ছিল। কিন্তু  আজ সে নিজের ক্লাসের সংবাদের বোর্ড প্রত্যেকদিন অন্যান্য সহপাঠিনিদের সঙ্গেই তৈরী করে এবং স্কুলের গ্রন্থাগার কমিটির সে প্রধান।

গ্রন্থাগার কমিটি নিশ্চিত করেছে যে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী নিজের পছন্দমত একটি করে বই পড়বার জন্য বাড়ি নিয়ে যেতে পার। এই বইগুলো কোন সহৃদয় ব্যক্তি হয়ত দান করেছেন। যা স্কুল কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেছে। “ এই গ্রন্থাগারের  সুবিধা পাওয়ার ফলে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।” এই কথাগুলি তার স্কুলের সহপাঠিনী বি. ভিনা বলেছে।

এন উপেন্দ্রা রেড্ডি, এসএসএ-র রাজ্যসরকারের তত্ত্বাবধায়ক অফিসার বলে যে এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে পড়ালেখার উত্কর্ষতা বেড়েছে এবং প্রায় যেকোন বেসরকারি স্কুলের মানের সমান হয়েছে এবং পড়াশুনোর প্রতি ছাত্রছাত্রীদের প্রবল আগ্রহ বেড়েছে।

স্কুলে ম্যাগাজিন বোর্ডে, ছেলে মেয়েরা প্রত্যেকদিন নিজে হাতে সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য খবর কাটিং করে নিয়ে নিজে হাতে বোর্ডে লাগায় এবং নিজেদের নাম লিখে রাখে। এর ফলে এদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে ওঠে এবং জ্ঞানও বাড়ে। এই ছবি চোখে পরে কুতবুল্লাপুরমন্ডল এলাকার রঙ্গা রেড্ডি নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেখানে দরিদ্র শ্রমিকের ছেলেরা পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে বলে তারা এধরনের সুযোগ সুবিধে পাওয়ার ফলে আমাদের কাছে তাদের প্রতিভা প্রকাশিত হয়েছে। তাদের অনুভূতির কথা প্রত্যেকদিন একপৃষ্ঠা করে লিখতে বলা হয়েছে যাতে তাদের লেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। স্কুলে একটি চিঠির বাক্সও রাখা হয় যেখানে প্রত্যেকদিনের পড়াশুনা ও সমস্যা অভিযোগ জানিয়ে ছাত্রছাত্রীরা চিঠি লিখে বাক্সে  ফেলতে পারেব। এসএসএ-র কমিউনিটি মোবাইলসেশন অফিসার ভি.মধুসুদন বলেন যে “ এই উদ্যোগগুলির অবশ্যই ভালো ফল হবে।

উত্স : দ্য হিন্দু ডেইলি সংবাদপত্র ৯ই আগষ্ট, ২০০৭.



স্থানীয় বাসিন্দা : সমাবেশ এবং শিক্ষিত করা

ভারতের এমভি ফাউন্ডেশন, যেসব ছোট মেয়েরা শ্রমিকের কাজ করে তাদের উন্নয়নের জন্য অনবদ্য কিছু পন্থা অবলম্বন করেছে। জন সমর্থন আদায় করতে হবে সরকারকে দেখাতে হবে কিভাবে দাসত্ব প্রথা ও শিশু শ্রমিক প্রথা আমাদের চারপাশে   রয়েছে।  কন্যা সন্তানদের কার্যক্রম এদেরকে দাসত্ব প্রথা ও গৃহকর্ম থেকে মুক্তি দিয়ে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

এই কার্যক্রম পরম্পরাগত ভাবনা ও সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার সম্পর্কে সমাজের প্রতি স্তরে সকলকে সচেতন করতে হবে এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন পথকে স্বাগত জানাতে হবে। জনগনকে সাহস যোগাতে হবে যাতে কন্যা সন্তানদের অবহেলার চোখে না দেখে। এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন ব্যবহার করে কাজের বদলে তাদের হাতে যেন বই তুলে দেয়।

কন্যা সন্তানদের অবস্থার উন্নতির জন্য প্রকল্পগুলিকে শুধু কাগজে ফাইলে বন্ধ করে রাখলে হবে না। সেগুলি সবাইকে জানাতে হবে, গোপন করলে হবে না। প্রকাশ্য সমাবেশে তর্কের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির ভাল মন্দ যাচাই করে নিতে হবে। এরপর স্কুল কমিটি আশ্বস্ত করবে স্কুলে উন্নতি সাধন করে, মেয়েদের জন্য স্কুলে বিশেষ ব্যবস্থা করে বিশেষ করে শৌচাগারের ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাকরে দেওয়া হবে। স্থানীয় সমাজসেবী যারা মেয়েদের জন্য কাজ করছে, যাদের পড়াশুনা করতে গিয়ে মেয়ে হিসেবে যে যে  সমস্যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারাই শুধু তাড়াতাড়ি মেয়েদের সমস্যাগুলি চিনতে পারবে। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার  করে প্রথমে ১০ জন মেয়ে পেলেন যাদের বাবা মায়েরা মেয়েদের গৃহকর্ম থেকে ছুটি দিয়ে স্কুলে পাঠালেন।

এরা অভিভাবকদের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, তাদের রাজী করিয়ে, বুঝিয়ে তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাবার ব্যবস্থা করে। যে মুহুর্তে অভিভাবকরা রাজী হয়ে যায় সেই সময় তারা বাড়ির ছোট মেয়েটিকে স্কুলে নিয়ে আসেন ও বড়টিকে আবাসিক ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। এসমস্ত ক্ষেত্রে এরা সবসময় বাবা মাকে সাহায্য করে থাকেন। তারা স্কুল ছুট মেয়েদের চিহ্নিত করে ও তাদের আবার মজুরি খাটতে বাধা দেয়। মহিলা কর্মীরা মেয়েদের সাহায্য করে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানায় এভাবে তারা একে অপরকে সাহায্য করে। এইসব মেয়েরাই তাদের বাবা মায়ের কাছে সমাজের কাছে আদর্শ হয়ে দাড়ায়। এরা বাল্য বিবাহ এবং অন্যান্য বিশেষ বিষয় নিয়ে কথা বলে। যে বিষয়গুলি মেয়েদের স্কুলে যাবার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। মেয়ে রা যেকোন রকম সামাজিক অনুষ্ঠানকেই বেছে নেয় যেখানে তারা মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে সাধারন মানুষকে সচেতন করতে পারে। এই সচেতনতা বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্র হিসেবে স্তরে স্তরে গিয়ে কাজ করে  (কন্যা সন্তানের অধিকার সুরক্ষা, মা, স্কুলের মেয়ে, তরুণীরা )  প্রত্যেককেই সংঘবদ্ধ করা হয় মেয়েদের মজুরী খাটতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে। নাটক ও পথ নাটক করা হয় সচেতনতা বারাবার জন্য। এবং এগুলির প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। মেয়েদেরকে আর কায়িক শ্রম বা দাসত্ব করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। অনেক মেয়েরাই আবাসিক স্কুলে গিয়ে নাম লেখাচ্ছে। বাল্য বিবাহকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এন. ভি ফাউন্ডেশন এভাবেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে শিশু শ্রম নিঃশেষ করে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং অন্য সতীর্থদের কাছে উদাহরন হয়ে গিয়েছে।

(উত্স: কাজের বাইরে স্কুলে যাওয়া, UNESCO )

২০০১ সালের জন গননা অনুসারে অন্ধ্রপ্রদেশে জন সংখ্যার ৭৫.৭ মিলিয়ন, যার মধ্যে ৬০.৫ শতাংশ স্বাক্ষর। মোট সংখ্যার মধ্যে ৫ মিলিয়ন আদিবাসী উপজাতি যাদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার মাত্র ১৭ শতাংশ। এই আদিবাসী উপজাতিরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা জাতি যারা সাধারণত চাষবাষ করে, নব্য সম্পদ সংরক্ষন করে বা মজুত করে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য সরকার আদিবাসীদের মধ্যে স্বাক্ষরতার প্রসার করবার জন্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন অবৈতনিক আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠা, গুরুকুলম, অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর বাচ্চাদের জন্য বিনাখরচে পড়াশুনা করবার ও থাকবার ব্যবস্থা। শিক্ষাদপ্তর, সমাজ উন্নয়ন দপ্তর আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর মিলে এই গুরুকুলমের দায়িত্ব নিয়েছে।
হোল-ইন-দ্য-ওয়াল এডুকেশন লিমিটেড আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের সাথে অন্ধ্রপ্রদেশের চারটি জেলায় চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। য়ে যে শহরে এই শিক্ষা দপ্তর তৈরী হয়েছে সেগুলি হল, পার্বতিপুরম, শ্রিসাইলাম, ভদ্রাচালম, নাগার্জুনসাগর এই চারটি জায়গার মধ্যে পার্বতিপুরম, শ্রিসাইলাম, ভদ্রাচালম-এ অতিরিক্ত উত্কর্ষতার জন্য স্কুল রয়েছে। এটা ২০০৫ এর আগষ্ট মাসে স্থাপিত হয়েছে। এইসব অতিরিক্ত উত্কর্যতার স্কুলে আদিবাসী মেধাবী ছাত্ররা পড়াশুনা করে। এসমস্ত স্কুলের মাধ্যম হচ্ছে ইংরেজি। এই স্কুলগুলিতে অষ্টম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনীর  পর্যন্ত ছেলে মেয়ে উভয়ই একসাথে পড়াশুনা করে।
নাগার্জুননগরের  স্কুলটি হল অন্ধ্রপ্রদেশে আদিবাসী আবাসিক উন্নয়ন স্কুল (আদিবাসী উপজাতি গোষ্ঠি - ছেলেদের) যেটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই স্কুলটিতে ৪৫৮ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশুনা করতে পারে এবং স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা ২৩ জন। তৃতীয় শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পড়া যায়। পড়ানোর মাধ্যম তেলেগু যদিও ইংরেজীও শেখানো হয়। এই স্কুলটিতে একটি কমপিউটার ল্যাবও আছে যেখানে ১৫টি কমপিউটার আছে।

উত্স: http://www.hole-in-the-wall.com/News10.html



পড়াশুনার  অধিকার  বিষয়ে  নতুন সম্মিলিত রাষ্ট্রপু়ঞ্জের রিপোর্ট
এই বিবৃতিটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষমদের পড়াশুনার ওপর রয়েছে। যেখানে ইউনেসকোর একটা বড়ভূমিকা  রয়েছে। এরা কাজের একটি পরিকাঠামো তৈরী করে। তত্ত্বাবধান করে এবং বিভিন্ন ভাবে চ্যালেঞ্জকে প্রয়োগ করে।
স্কুলে বিভিন্নরকমের নতুন প্রকল্পের প্রয়োগের কারনে  মহারাষ্ট্রে অসাধারন উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে
সর্বশিক্ষা অভিযানের অন্তর্গত, যাবাটমল জেলায় বিশাল জনগনকে সংঘবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে  মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী বসন্তপুর এবং ইউনিসেফের সহায়তায়, অভিভাবকদের কাছে এই প্রস্তাব রাখার জন্য যাতে তারা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠায়। এই প্রস্তাবের নামকরন করা হয় জ্ঞানরথ পরিক্রমা বা জ্ঞানের রথ, যা কিনা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাচ্চাদের স্কুলে ভর্ত্তি করার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রচার করবে।
কোলকাতায় রাস্তায় থাকা প্রত্যেকটি শিশুর পরিসংখ্যান

কোলকাতা মিউনিসিপাল করপোরেশন, সরকারি দপ্তর, ইউনিসেফ এবং কিছু অংশীদার এনজিও সংস্থা, যৌথ উদ্যোগে  কোলকাতা এবং তার পার্শবর্তি অঞ্চলের অনগ্রসর শিশুর জন্মপত্রী তালিকা  প্রনয়ন করেছে, যাতে তাদের স্বাস্থ্য, পড়াশুনা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার পথ সুগম হয়।

Education Best Practices
Education Best Practices

Powered by Plone CMS, the Open Source Content Management System

This site conforms to the following standards: