ভারতের 68% কর্মরত মহিলা জীবনশৈলী সংক্রান্ত অসুখে ভোগেন

কর্মরত মহিলাদের দুই-তৃতীয়াংশ জীবনশৈলী-সংক্রান্ত অসুখে ভোগার সঙ্গে সঙ্গে, তাঁদের  মধ্যে 53 শতাংশ কাজের চাপ ও সময়মত কাজ শেষ করার তাড়ায় ঠিক সময়ে খাবার খান না ও আজেবাজে খাবার খেয়ে থাকেন৷
অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার অফ কমার্স অ্যাণ্ড ইণ্ডাস্ট্রি (অ্যাসোচেম) দ্বারা পরিচালিত একটি নিরীক্ষা অনুসারে 21-52 বছর বয়সের কর্মরত মহিলাদের 68 শতাংশেরই জীবনশৈলী-সংক্রান্ত অসুখ যেমন স্থূলতা, অবসাদ, স্থায়ী পিঠ ব্যথা, ডায়বিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকতে দেখা যায়৷

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে যে যেহেতু ভারতের শহরগুলির 27 শতাংশ মহিলারা কর্মরত, তাই তাঁদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাজ ও বৃত্তি উভয় ক্ষেত্রের জন্যই চিন্তার বিষয়৷
'প্রিভেণ্টিভ হেল্থকেয়ার অ্যাণ্ড কর্পোরেট ফিমেল ওয়ার্কফোর্স ' নামক অধ্যয়নটি এ-ও বলে যে কম মানসিক চাপযুক্ত পরিবেশে কর্মরত মহিলাদের তুলনায় দীর্ঘ কাজের সময় ও কঠোর সময়সীমা ধরে কাজ করার ফলে 75 শতাংশ পর্যন্ত কর্মরত মহিলারা অবসাদ বা জেনারেল অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার নামক অসুখে আক্রান্ত হন৷
প্রতিবেদনটি জানায় যে সব ক্ষেত্র বেশি সময় দাবি করে যেমন মিডিয়া, নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং এবং ট্যুরে যেতে হয় এমন কাজে কর্মরত মহিলারা অসুস্থ হলেও ছুটি নিতে পারেন না, এবং নিজেদের জোর করে কাজ করতে বাধ্য করেন, প্রধানত কাজের নিরাপত্তাহীনতার কারণে, বিশেষ করে এই বর্তমান আর্থিক মন্দার সময়ে৷
অবশ্য, এটি এ-ও বলে যে, কলকারখানার দূষক ও পরিবেশগত বিষাক্ত বস্তুর সংস্পর্শ, ভাল ঘুম না হওয়া, ব্যায়ামের অভাব, সূর্যালোক, অপুষ্টি, অত্যধিক মদ্যপান ও ড্রাগের অপব্যবহারের  মত কারণের ফলেও অবসাদ ঘটে থাকে৷
মহিলারা, বিশেষ করে যাঁরা কর্মরত, যে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিবিধ ভূমিকা পালন করেন সে বিষয়ে আলোকপাত করে প্রতিবেদনটি তাঁদের গৃহ ও কর্মস্থল উভয় জায়গাতেই ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনের উপর জোর দেয়৷
"স্বাস্থ্যের পরিচর্যার বিষয়ে অজ্ঞানতা তাঁর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যেমন তাঁর পরিবার, কর্মস্থল ও সামাজিক বৃত্তের উপর একাধিক প্রভাব ফেলতে পারে," অধ্যয়নটি জানায়৷
প্রতিবেদনটি জানায় যে "77 শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতারা বলেন যে তাঁরা নিয়মিত চেক-আপ এড়িয়ে চলেন," যা কাজের জায়গা ও বড়ির মধ্যের  ভারসাম্য বজায় রাখার অনিয়মিত সময়সীমা ও সেইসঙ্গে সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে মহিলারা যে নিজেদের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করেন তারই ইঙ্গিত দেয়৷

প্রতিবেদনটি আরও জানায় যে উত্তরদাতাদের 47 শতাংশ স্বাস্থ্যের পরিচর্যার পিছনে বছরে 500 টাকার কম খরচ করেন , যেখানে 22 শতাংশ  500- 5,000  টাকার মধ্যে খরচ করেন, যেহেতু তাঁরা স্থূলতা, অবসাদ ও স্পণ্ডিলোসিসের মত রোগে ভোগেন৷
29 শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতাদের স্বাস্থ্যের পরিচর্যার পিছনে বছরে 5,000-50,000 টাকা খরচ করতে দেখা গিয়েছে৷ তবে, এঁদের মধ্যে অধিকাংশ উত্তরদাতারই উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ,ডায়বিটিস, হৃদরোগ, হাঁপানি, প্রস্রাবের সংক্রমণ ও আর্থ্রাইটিস আছে বলে দেখতে পাওয়া যায়৷

উত্স: অ্যাসোচেম




Powered by Plone CMS, the Open Source Content Management System

This site conforms to the following standards: