|
|
হার্ট অ্যাটাক
-
- এটি প্রায় আপনার মুঠির মাপের একটি ফাঁপা, পেশল অঙ্গ৷
- এটি বুকের মাঝামাঝি জায়গায়, সামান্য বাঁ দিকে
থাকে৷
- এটি দিনে প্রায় এক লক্ষ বার স্পন্দিত হয়, এবং মিনিটে
60-90 বার৷
- হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনের সঙ্গে সঙ্গে এটি শরীরে রক্ত পাম্প করে
পাঠায়৷
- হৃদয় তার পুষ্টি ও অক্সিজেন পায় রক্তের মাধ্যমে যা
সরবরাহ করে করোনারি ধমনী৷
- হৃদয় দুটি ভাগে বিভক্ত, দক্ষিণ ও বাম৷ হৃদয়ের দক্ষিণ ও বাম উভয় দিকেই
দুটি করে প্রকোষ্ঠ আছে( অলিন্দ ও নিলয় নামে পরিচিত)৷ হৃদয়ে মোট চারটি
প্রকোষ্ঠ থাকে৷
- হৃদয়ের দক্ষিণ ভাগ শরীর থেকে অপরিষ্কার রক্ত গ্রহণ করে ও তা পাম্প করে
ফুসফুসে পাঠিয়ে দেয়৷
- ফুসফুস থেকে রক্ত পরিশোধিত হয়ে হৃদয়ের বাম দিকে ফিরে আসে যেখান থেকে
তাকে আবার পাম্প করে শরীরে পাঠান হয়৷
- হৃদয়ের বাম দিকে দুটি
(মিট্রাল ও
অ্যাওটিক) এবং দক্ষিণ
দিকে দুটি(পালমোনারি ও ট্রাইকাস্পিড) মোট চারটি ভালভ বা কপাটিকা রক্তের
প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য একমুখী দরজা হিসাবে কাজ করে৷
|
|
-
- হৃদয় একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পাম্প
করে পাঠায়৷ করোনারি ধমনী নামক রক্তবাহী নালীর মাধ্যমে হৃদয় অক্সিজেন
সমৃদ্ধ রক্ত লাভ করে৷
যদি এই রক্তবাহী নালীগুলি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে হৃদয়ের
পেশি রক্ত পায় না ও তার ফলে মারা যায়৷ একেই বলা হয় হার্ট অ্যাটাক৷
হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্ব হৃদয়ের পেশির ক্ষতির পরিমাণের উপর নির্ভর করে৷
মৃত পেশি পাম্পিং ক্রিয়া কমজোরি করে হৃদয়ের কার্যকারিতার উপর ক্ষতিকারক
প্রভাব ফেলতে পারে, যা থেকে হতে পারে(কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর বা পুঞ্জিত
হৃদরোগ), এমন একটি অবস্থা যার লক্ষণ শ্বাসকষ্ট ও পা ঘামা৷
|
|
-
|
আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, করোনারি ধমনীগুলি সহ
সব রক্তবাহী নালীর ভিতরের দিকে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে, যার ফলে রক্তের
প্রবাহ ক্রমশঃ বাধাপ্রাপ্ত হতে থাকে৷ এটির ক্রমশঃ সঙ্কীর্ণ হয়ে আসাকে বলা
হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস৷
মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের হার্ট অ্যাটাক হবার সম্ভাবনা বেশি৷ মহিলারা
সম্ভবতঃ নারী সেক্স হরমোন, ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের প্রভাবে সুরক্ষিত
থাকেন৷ এই প্রতিরোধক প্রভাবটি অন্ততঃ রজোনিবৃত্তি পর্যন্ত স্থায়ী
হয়৷
ভারতীয় সহ সমগ্র এশিয় বংশোদ্ভূত লোকেদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা
বেশি বলে মনে করা হয়৷
ঝুঁকিগুলির মধ্যে আছে:
- ধূমপান
- ডায়াবিটিস বা বহুমূত্র রোগ
- উচ্চ রক্ত চাপ
- অধিক ওজন
- বেশি কোলেস্টেরল, ও ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকা
- শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
- হার্ট অ্যাটাকের পারিবারিক ইতিহাস
- মানসিক চাপ, চিরস্থায়ী ক্রোধ ও
উদ্বেগ
- বংশগত বিষয়
|
|
-
|
লক্ষণগুলি চেনা কঠিন হতে পারে ও তা অন্যান্য লক্ষণের অনুরূপ হতে পারে৷
দৃষ্টান্তমূলক বৈশিষ্ট্যবূপে দেখা যায়
- বুকে চাপভাব সহ ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট৷
- ঘাম, বমি ভাব ও দুর্বল লাগার মত লক্ষণও দেখা যেতে
পারে৷
- ব্যথা বুকের সামনে দিকে বা বুকের হাড়ের পিছনে হতে পারে৷
- সেখান থেকে তা গলা বা বাঁ বাহুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে৷
- বমি, উদ্বেগভাব, কাশি, বুক ধড়ফড়, ব্যথা ইত্যাদি অন্যান্য লক্ষণগুলি
সাধারণতঃ 20 মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়৷
- অত্যন্ত সাঙ্ঘাতিক স্থিতিতে, রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে রোগীকে
ফ্যাকাশে দেখাতে পারে, যা দ্রুত মৃত্যু ডেকে আনে৷
|
|
-
- চিকিত্সক রোগসংক্রান্ত বিস্তারিত ইতিহাস সংগ্রহ করেন এবং হৃত্স্পন্দন
পরীক্ষা করেন ও রক্তচাপ মাপেন৷
- একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি করা হয় যা হৃদয়ের বৈদ্যুতিক
ক্রিয়াকলাপের আলেখ্য৷
- ইসিজির সাহায্যে হৃত্স্পন্দনের হার, অস্বাভাবিক ছন্দের উপস্থিতি এবং
হার্ট অ্যাটাকের দরুণ হৃদয়ের পেশির কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কী না তা
জানতে পারা যায়৷
- মনে রাখা জরুরি যে প্রাথমিক স্তরে ইসিজি স্বাভাবিক দেখালেও হার্ট
অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না৷
- হৃদয়ের পেশির ক্ষতি হয়েছে কী না নির্ণয় করার জন্য রক্ত পরীক্ষা কাজে
লাগে৷
- বুকের একটি এক্স-রে করা যেতে পারে৷
- ইকোকার্ডিওগ্রাম এক ধরনের স্ক্যান যা হার্টের কার্যক্ষমতা সম্বন্ধে
প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়৷
- করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রামের সাহায্যে করোনারি নালীগুলিতে বাধার
উপস্থিতির চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়৷
|
|
-
|
হার্ট অ্যাটাকের দ্রুত চিকিত্সা জীবন রক্ষা করতে পারে৷
- সুদক্ষ চিকিত্সা সহায়তা এসে না পৌঁছন পর্যন্ত রোগীকে শুইয়ে রাখতে হবে
ও সব আঁট জামাকাপড় ঢিলা করে দিতে হবে৷
- অক্সিজেন সিলিণ্ডার পাওয়া গেলে, রোগীকে অক্সিজেন দিতে হবে৷
- নাইট্রোগ্লিসারিন বা সর্বিট্রেট
ট্যাবলেট পাওয়া গেলে, জিভের তলায় একটি বা দুটি
ট্যাবলেট রাখা যেতে পারে৷
- দ্রবণীয় অ্যাসপিরিনও দেওয়া উচিত৷
|
|
-
- হার্ট অ্যাটাক হলে তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা ও হাসপাতালে ভর্তি করা
প্রয়োজন৷
- প্রথম কয়েকটি মিনিট ও ঘণ্টা-ই চরম সঙ্কটপূর্ণ৷ প্রাথমিক স্তরে,
করোনারি ধমনীর রক্তপিণ্ড গলিয়ে ফেলার জন্য ওষুধ দেওয়া যেতে পারে৷
- হৃত্স্পন্দনের ছন্দের দিকে চোখ রাখা হয় এবং কোনও রকম অস্বাভাবিক
ছন্দের দ্রুত চিকিত্সা করা হয়৷ ব্যাথা কমানর ওষুধ দেওয়া হয় এবং রোগীকে
বিশ্রাম নিতে ও ঘুমোতে উত্সাহ দেওয়া হয়৷
- রক্তচাপ বেশি থাকলে, তা কম করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়৷
- প্রকৃত চিকিত্সাপদ্ধতি ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভর করে তৈরি হয় এবং তা
রোগীর বয়স, অ্যাটাকের তীব্রতা, হৃদয়ের ক্ষতির পরিমাণ ও রক্তবাহী নালীতে
বাধার পরিমাণের উপর নির্ভরশীল৷
- অনেক সময়েই বাধা সরানর জন্য একটি আরো নিশ্চিত পদ্ধতির প্রয়োজন হতে
পারে৷ তা হতে পারে করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, বেলুন ব্যবহার করে রক্তবাহী
নালীর প্রসারণ বা করোনারি বাইপাস অপারেশন৷
|
|
-
|
যাঁদের হার্ট অ্যাটাক হবার ঝুঁকি খুব বেশি তাঁদের অবশ্যই নিম্নলিখিত
প্রতিরোধক ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করতে হবে:
লাইফ স্টাইল বা জীবনযাপনের ধরনের পরিবর্তন
- খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে এবং নুন ও স্নেহপদার্থ কম করে
তন্তু ও জটিল শর্করার পরিমাণ বেশি করতে হবে৷
- যাঁদের ওজন বেশি তাঁদের ওজন কম করতে হবে৷
- নিয়মিত কায়িক ব্যায়াম করতে হবে৷
- ধূম্রপান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে৷
বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্ট্রলের রোগীদের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার
জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে৷
|
|
|
|