জাতীয় ই-শাষণ পরিকল্পনা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির(আইসিটি)উপকারের স্বচ্ছতা, সময়মত ঝামেলাহীন নাগরিক সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য সরকার ১৯৯০ এর শেষ দিকে ই-গভর্নেন্স অনুক্রম আরম্ভ করেছে। তারপর, কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় ই-গভর্নেন্স(এনইজিপি)পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, ২৭ টি মিশন মোড পরিকল্প(এমএমপি)ও ৮টি বিষয় নিয়ে, ২০০৬এর ১৮ই মে তে ভারতবর্ষে ই-গভর্নেন্স অনুক্রম উদ্যোগকে জোরদার করার জন্য। তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ(ডিআইটি)এবং ডিপার্টমেন্ট অফ্‌ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস এবং পাব্লিক গ্রীভেন্সেস্‌(ডিএআর এবং পিজি)জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা (এনইজিপি) তৈরী করেছে।

জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনার লক্ষ্য

জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা শুরু হয়েছে নাগরিকদের এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে সরকারী পরিষেবা প্রদানের উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে এবং এই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েঃ “সমস্ত সরকারী পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য তাদের অঞ্চলে উপলভ্য করা সাধারণ ডেলিভারী আউটলেটের মাধ্যমে এবং এই সব পরিষেবার উপযুক্ততা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা সাধারণ মানুষের মূল প্রয়োজনগুলি উপলব্ধ করার জন্য”।

দৃষ্টিভঙ্গীর ঘোষনা পরিষ্কারভাবে ভাল গভর্নেন্সের জন্য সরকারের এইসব অগ্রগণ্যতা চিহ্নিত করে:

অভিগম্যতা: গ্রামীন জনগণকে মনে রেখে দৃষ্টিভঙ্গীটির নক্সা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয়তা হচ্ছে সমাজের সেইসব জনতার কাছে পৌঁছোনো, যারা সরকারী পরিবৃত্তের বাইরে রয়ে গেছে নানারকম কারণে যেমন ভৌগলিক অসুবিধা এবং জ্ঞানের অভাব। জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনার একটা রাজ্যব্যাপী নেটওয়র্কের (এসডবলুএএন) বন্দোবস্ত আছে যাতে ব্লক লেভেল পর্যন্ত সব সরকারী অফিস এবং পরিষেবা কেন্দ্রে(সিএসসিএস)গ্রামীন নাগরিকদের কাছে পৌঁছোনোর জন্য।

সর্বসাধারণের জন্য পরিষেবা প্রদান কেন্দ্র : বর্তমানে নাগরিকদের বিশেষতঃ যারা দূরগ্রামে থাকে, অনেক দূরে যেতে হয় সরকারী বিভাগ বা তার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে কোন পরিষেবা পেতে হলে। সাধারণ লোকের পক্ষে এটা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যায়সাধ্য হয়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনার (এনইজিপি) দৃষ্টিভঙ্গীর অঙ্গ হিসাবে প্রতি ছয়টি গ্রামের জন্য একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ সমন্বিত সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র(সিএসসি)স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে গ্রামের লোকেরা সহজে এই সুবিধা পেতে পারে। এই সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্রগুলি, অনলাইনে সমন্বিত পরিসেবা কেন্দ্রগুলিকে ‘যে কোন সময়ে, যে কোন জায়গায়’ পরিষেবাদানের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গভর্নেন্সকে উন্নত করার জন্য ই-গভর্নেন্স ববস্থা গ্রহণঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি(আইসিটি), সরকারকে জনগণের কাছে পৌঁছোতে, গভর্নেন্সকে উন্নত করবে। এটা বিভিন্ন সরকারী প্রকল্প তদারকি এবং রুপায়ণে সাহায্য করবে সরকারের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বাড়িয়ে।.

নাগরিকের জীবনযাত্রার মান উন্নতিকরণ:ই-গভর্নেন্স এই উদ্দেশ্য সাধনে সাহায্য করতে পারবে সস্তায় নাগরিকন্দ্রিক পরিষেবা প্রদানের বন্দোবস্তের মাধ্যমে এবং এভাবে ভাল সময় ফিরে দেওয়া এবং পরিষেবা দাবী করা ও পাওয়া।

কাজেই দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে ই-গভর্নেন্স ব্যবহার করা গভর্নেন্স জোরদার করার জন্য। ই-গভর্নেন্স উদ্যোগের মাধ্যমে প্রদান করা সব পরিষেবা সরকারকে, যাদের কাছে এখনও পৌঁছোনো যায় নি, তাদের কাছে পৌঁছোতে সাহায্য করবে এবং প্রান্তিক দলগুলিকে যোগদানের মাধ্যমে জড়িত করা ও ক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করবে এবং এভাবে সরকারী পদ্ধতি দারিদ্র দূরীকরণে এবং তীব্র সামাজিক ও আর্থিক বিভক্তি দূর করবে।

জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা রুপায়ণে কৌশল

তাই জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা(এনইজিপি), একটা প্রাজ্ঞ পন্থা যা অতীত থেকে শেখা এবং সফল ই-গভর্নেন্স প্রয়োগ যা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ভাবে রুপায়িত হয়েছে। ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা(এনইজিপি)-র জন্য গৃহীত পন্থা ও পদ্ধতিতে এইগুলি আছে:

সর্বসাধারণের পরিকাঠামো: জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা(এনইজিপি)রুপায়ণের জন্য দরকার সাধারণ এবং সহায়ক আইটি পরিকাঠামো স্থাপনা-যেমন রাজ্যব্যপী নেটওয়র্ক(এসডব্‌লুএএন),রাজ্য ডেটা কেন্দ্র(এসডিসি), সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র(সিএসসি)এবং বৈদ্যুতিন পরিষেবা প্রদান দরজা।

গভর্নেন্স: জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা রুপায়ণ এবং দেখাশোনা করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুক্রমের মধ্যে নীতি প্রস্তুতকরণ এবং মান নির্ণয়করণ, প্রাযুক্তিক সহায়তা দান ক্ষমতা তৈরী করা এবং গবেষনা ও উন্নয়ণ ইত্যাদিও আছে। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ(ডিআইটি) নিজেকে শক্তিশালী করে এবং অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে যেমন ন্যাশনাল ইনফরম্যাটিকস্‌ কেন্দ্র(এনআইসি),স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, টেস্টিং এ্যান্ড কোয়ালিটি সার্টিফিকেশন(এসটিকিউসি), সেন্টার ফর্‌ ডেভেলপমেন্ট অফ্‌ এ্যাডভ্যান্সড কম্পিউটিং(সি-ডিএসি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর্‌ স্মার্ট গভর্নেন্স(এনআইএসজি) ইত্যাদি আছে এইসব করার জন্য।

কেন্দ্রীভুত উদ্যোগ, বিকেন্দ্রীক রুপায়ণকরণ: ই-গভর্নেন্সকে একটা কেন্দ্রীভুত উদ্যোগ হিসাবে উন্নীত করা হচ্ছে যাতে নাগরিক কেন্দ্রীক ভাবে হয়, বিভিন্ন ই-গভর্নেন্স প্রয়োগের পারস্পরিক পরিচালন সম্ভব হয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিকাঠামোর ব্যবহার হয় যেখানে রুপায়ণ বিকেন্দ্রীভুত মডেলের হয়। এটা সফল প্রকল্প চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলিকে প্রয়োজনমত সাজানো যেখানে প্রয়োজন হয়।

সরকারী-বেসরকারী অংশীদারী (পিপিপি) ধরন: এটা করতে হবে, যেখানে সম্ভব, সম্পদ সম্প্রসারণ করার জন্, নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে।

সমন্বিতকরণের বিষয়গুলি : নাগরিকদর জন্য, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং সম্পত্তির জন্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন কোড গ্রহণে উত্‌সাহদান করতে হবে যাতে সমন্বিতকরণে সুবিধা হয় এবং কোন অনিশ্চয়তা না থাকে।

জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনার কাঠামো স্থাপন (এনইজিপি)

জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনার রুপায়ণে বিভিন্ন ধরনের এজেন্সীর যোগদান থাকায় এবং জাতীয় স্তরে সমষ্ঠিকরণ এবং সমন্বিতকরণ এর প্রয়োজনীয়তা থাকায় এটা ঠিক করা হয়ছে যে জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা একটা অনুক্রম হিসেবে রুপায়িত হবে। প্রতিটি এজেন্সীর দায়িত্ব ও করণীয় নির্দিষ্ট থাকবে এবং অনুক্রম চালানোর জন্য একটা সুনির্দিষ্ট পরিচালন কাঠামো গঠন করা হবে – এটা সরকার দ্বারা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। নীচের ছকে মূল অনুক্রম চালনের বস্তু এবং দিকগুলি দেওয়া হয়েছে।

পরিষেবা প্রদানের কৌশল

একটা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য আংকিক প্রদান পরিকাঠামো রাজ্যব্যাপী আঞ্চলিক নেটওয়র্ক নিয়ে, জাতীয়/রাজ্য পরিষেবা প্রদান দরজা (এনএসডিজি/এসএসডিজি), রাজ্য পোর্টাল এবং কমন সার্ভিসেস সেন্টার (সিএসসি) সৃষ্টি করা হচ্ছে প্রতি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সাধারণ মানুষকে একই জায়গা থেকে জন-পরিষেবা দেওয়ার জন্য।

জাতীয় ই-গভর্নেন্স বিভাগ(এনইজিডি)

ভারত সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ জাতীয় ই-গভর্নেন্স বিভাগ গঠন করেছে(এনইজিডি) মিডিয়া ল্যাব এশিয়ার মধ্যে একটা স্বয়ংশাসিত ব্যবসায়িক বিভাগ হিসাবে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রকের অধীনে। জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রকের নিম্নলিখিত বিষয়ে সহায়তা করে:

  • লাইন মন্ত্রক/রাজ্য সরকার দ্বারা মিশন মোড প্রকল্প রুপায়ণে সুবিধাদান
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রক/রাজ্য লাইন বিভাগগুলিকে প্রাযুক্তিক সহায়তা দান
  • সব জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনার প্রকল্পের প্রাযুক্তিক বিশদ সংগ্রহ করে শীর্ষ কমিটির মহাকরণ হিসাবে কাজ করা
  • রাজ্যগুলিকে জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা রুপায়ণে সাহায্য করার জন্য রাষ্ট্রীয় ই-মিশন দলের ব্যাবস্থা করা।

ক্ষমতা সৃষ্টি করা

জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনা(এনইজিপি)একটা বিশাল এবং জটিল প্রচেষ্টা যাতে ২০টি কেন্দ্রীয় বিভাগ,৩৫টি রাজ্য/কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল এবং এই সব রাজ্য/কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৩৬০টি দপ্তর ও প্রায় ৫০০টি রুপায়ণকারী এজেন্সী জড়িত। এটাতে সর্বসমেত ৭০,০০০ মানব-বর্ষের প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে আশা করা হচ্ছে। সুতরাং জাতীয় ই-গভর্নেন্স পরিকল্পনাকে(এনইজিপি) তার লক্ষ্যে পৌঁছোতে হলে যে ক্ষমতার ফারাক পূরণ করতে হবে,তার মধ্যে পড়ে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ,দক্ষতা উন্নয়ণ এবং শিক্ষণ। ক্ষমতা গঠন পরিকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে এইসব বিরুদ্ধতার সব দিক থেকে সামনা করার, রাজ্য সরকারের ই-গভর্নেন্স মিশন দল(এস্‌ইএমটি), পরিকল্প ই-গভর্নেন্স মিশন দল(পিইএমটি)এবং মানব সম্পদ চালন সহ। এই পরিকল্প বিভিন্ন কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে-যেমন প্রার্থীদের নথিভুক্ত করা, রাজ্যগুলিকে নিয়োগে সহায়তা করা এবং বিভিন্ন স্তরে ই-গভর্নেন্স এর পরিকল্প রুপায়ণে যুক্ত নেতা এবং কর্মসচিবদের উত্‌সাহিত ও চালিত করা, রাজ্য ই-গভর্নেন্স মিশন দলগুলিকে (এসইএমটি) দিকনির্দেশ দেওয়া এবং বিভিন্ন স্তরের সচিবদের বিশেষ কেন্দ্রীভূত বিষয়ে অনুক্রম এবং প্রকল্প স্তরে শিক্ষণ দেওয়া।

সাধারণভাবে রাজ্যগুলিতে তিনটি বিশিষ্ট ক্ষমতার ফাঁক পূরণের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে:

  • সঠিক শিক্ষা সংস্কৃতি এবং ঝোঁক সম্পন্ন লোকজনের অভাব
  • ইতিমধ্যেই নিয়োজিত লোকেদের অপর্যাপ্ত দক্ষতা
  • এই বিশেষ অনুক্রম চালনা করার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব

সূত্র: তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর
ই-গভ নলেজ এক্সচেঞ্জ (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট্‌ ফর্‌ স্মার্ট গভর্নেন্স)


Powered by Plone CMS, the Open Source Content Management System

This site conforms to the following standards: